logo
Floating 2
Floating

যশোরে চলছে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম।


যশোরে চলছে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম।

যশোর

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার কারণে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) যশোরের বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন ছিল জনশূন্য। সড়কে লোকজন নেই বললেই চলে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। চলছে সেনা টহল। এছাড়াও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যশোর থেকে প্রকাশিত সব দৈনিক পত্রিকা।

শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার রিকশাচালক মনা মিয়া বলেন, প্রতিদিন যা আয় হয়, তাই দিয়েই বাজার-সদাই করি। সেখান থেকেই সামান্য সঞ্চয় করে প্রতি মাসে ঘরভাড়া শোধ করি। সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। ৪০ টাকা আয় হয়েছে।

এদিকে মানুষকে ঘরে রাখতে সকাল ১০টা থেকে সড়কে সেনা টহল দেখা গেছে। টহলের পাশাপাশি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, মানুষ যাতে ঘরে থাকে, সেজন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। যারা মানবে না, তাদের ওপর আইন প্রয়োগ করবো। করোনা আক্রান্ত রোগী পেলে তার ব্যবস্থাপনায় যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যশোরে ৮ প্লাটুন সেনা সদস্য নামানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও নামবে। একই রকম ভাবে যশোরের চৌগাছায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহনে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ বুধবার ভোর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও পৌরসভা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

চৌগাছা

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চৌগাছার প্রধান বাজারসহ সলুয়া, পাশাপোল, হাকিমপুর, সিংহঝুলী বাজারের দোকান পাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওষুধ, খাবার ও সবজির দোকান ছাড়া সকল পণ্যের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। চৌগাছা-যশোর, চৌগাছা-মহেশপুর, চৌগাছা-ঝিকরগাছা, চৌগাছা-কোঁটচাদপুর সড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে আজ থেকে জারি হওয়া করোনা ভাইরাস ঠেকাতে সতর্কতা নির্দেশ অনেকে মানছেন না বলে খবর পাওয়া গেছে। সরজমিন বিভিন্ন বাজারে জনগনের সমাগম লক্ষ করা গেছে। তারপরও ভোর থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও পৌরসভা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল নেয়ামুল হালিম খান, উপজেলা চেয়ারম্যান ড. এম মোস্তানিছুর রহমান, সহকারী কমিশনার ভূমি নারায়ন চন্দ্র পাল, থানার অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজিব, পৌর মেয়র নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেলসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
সকাল ১০ টায় ঝিকরগাছা সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সতর্কতা নির্দেশনা না মেনে যে সকল দোকানপাট খোলা ছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা মনিটরিং করা হয়। পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে কিনা সেটা তদারকি করা হয়। অভিযানের সময় ইটভর্তি একটি ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাজারের ভাস্কর্য মোড়, বাসস্ট্যান্ড, নিরিবিলি পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক ব্যক্তিরা কোয়ারেন্টাইন মানছে কিনা এমনকি উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা কে কোথায় অবস্থান করছেন বাড়িবাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়া হয় এই অভিযানের মাধ্যমে।
অভিযান চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, জনগনকে সতর্কতা নির্দেশ অবশ্যই মানতে হবে। না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন, এই অভিযান অব্যহত থাকবে। তবে এ সময় তিনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য জনগনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।


কেশবপুর
কেশবপুর শহরে মুদি ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জনচলাচলও সীমিত হয়ে গেছে।
জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনী। গরিবদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ ও অন্যদের মাস্ক পরতে বাধ্যও করা হচ্ছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস শহরের রাস্তায় পানির সঙ্গে জীবাণুনাশক ছেটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুর শহরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনী জনসচেতনতামূলক কাজ শুরু করে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শহরের মাছবাজারে ওজনে কম দেওয়ায় শামসুর রহমান নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা করা হয়।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, ওই মাছ ব্যবসায়ী প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বিক্রি বা সরবরাহ না করে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। সেই কারণে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়েছে।
পরে উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করে।
বেলা সাড়ে এগারোটায় শহরের গাজির মোড়ে ক্যাপ্টেন সাইফুলের নেতৃত্বে সেনাসদস্যর রাজপথে চলাচলকারীদের বাড়িতে ফেরত পাঠায়। ওই সময় গরিব পথচারী, বৃদ্ধ ভ্যানচালকদের বিনা মূল্যে মাস্ক সরবরাহ করেন সেনাসদস্যরা।
এদিকে, দুপুর ১২টার পর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কেশবপুর শহরের বিভিন্ন সড়কে জীবাণুনাশক পানি ছেটায়।
ফায়ার সার্ভিসের কেশবপুর স্টেশন কমান্ডার হুমায়ুন কবির বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আজ সকাল থেকে এই কাজ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শহরের ওষুধ ও মুদি দোকান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠন বন্ধ রয়েছে।
মনিরামপুর
করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে লোকসমাগম ঠেকাতে মণিরামপুরে মাঠে জোর তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলিশ ও সেনাসদস্যদের নিয়ে মণিরামপুর বাজার থেকে এই অভিযান শুরু করেন। অভিযানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম ও থানার ওসি রফিকুল ইসলামও যোগ দেন।
বেলা ১২টায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসন মণিরামপুর বাজার হয়ে ফকিররাস্তা, শ্যামনগর, হরিণা, দুর্বাডাঙ্গা ও চালুয়াহাটিতে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন মোড় বা বাজারের ওষুধের দোকান ছাড়া বাকি সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় নেমে পড়া ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালকসহ যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বেলা ১২টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত ছিল।
অভিযান চলাকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, সকাল সাড়ে আটটার পর মণিরামপুর বাজার থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী, ওসি রফিকুল ইসলামসহ দুই গাড়ি সেনাসদস্য ও পুলিশ নিয়ে মণিরামপুর বাজার থেকে চিনাটোলা বাজার পর্যন্ত অভিযান চলে। এরপর দুই দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান চলাকালে ওষুধের দোকান বাদে বাকি সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওষুধের দোকানে যেন বেশি লোক সমাগম না হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় নেমে পড়া ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালকসহ যাত্রীদের বুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

বেনাপোল

মহামারী করোনার হাত থেকে মুক্তি পেতে বিশ্ববাসী এখন সোচ্চার। প্রতিটি দেশ দেশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সারা বিশ্বের নাই করো না আতংকে ভুগছে আমাদের দেশের মানুষ। বাংলাদেশ সরকারের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জেলা-উপজেলার প্রশাসন দপ্তরে জনসচেতন মূলক প্রচার মাইকিং সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সকল নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ শক্তিশালী বাহিনীর সেনা সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। উপজেলা নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট এর তত্ত্বাবধানে এ সকল নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করবে বলে সরকার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

গতকাল বুধবার(২৫ শে মার্চ) সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনামূলক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনীদের কে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটে এর নির্দেশ মোতাবেক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত ব্যাংকিং সুবিধা চালু রেখে অন্যান্য সকল অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র ডাক্তার-খানা ওষুধের দোকান ক্লিনিক এবং হাসপাতাল ব্যতীত বাজার এলাকার প্রত্যেকটি দোকানপাট এমনকি চায়ের দোকান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একের অধিক একত্রে চলাফেরা করা যাবেনা ইত্যাদি নির্দেশনা দিয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৬ শে মার্চ) দেখা গেল শার্শা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকারি কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরীর সেরকম একটি কার্যক্রম। সেনাবাহিনী সহ সরকারের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে তিনি আজ সকালে বেনাপোল বাজার পরিদর্শন করেন।পরিদর্শন শেষে ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, এখানে ভয়ের কিছু নেই, করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা জননিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। এ সকল কাজে জনসাধারণের সহযোগিতা একান্তই কাম্য, তা না হলে এ রোগ থেকে কিছুতেই পরিত্রান পাওয়া যাবে না।

মন্তব্য

উপর