logo
Floating 2
Floating

কুলিয়ারচরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ! বিচার দাবিতে উত্তাল এলাকা! ৬ দিনপর মামলা


কুলিয়ারচরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ! বিচার দাবিতে উত্তাল এলাকা! ৬ দিনপর মামলা
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ৪৩ নং দড়িগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে তার পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে পড়ানোর নামে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেছে বলে এলাকায় অভিযোগ উঠে। ঘটনার ৫ দিনেও রহস্যজনক কারণে মামলা না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে। 

এক পর্যায়ে গত সোমবার (১৫ জুন) রাত ৭ টার দিকে স্থানীয় মুজরাই মোড় বাজার এলাকার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিমের বিচার দাবিতে তার ছবি সহ "ধর্ষক সেলিম মাস্টারের বিচার চাই, করতে হবে" এমন স্ট্যাটাসে স্থানীয় ফেসবুকগুলো সরগরম হয়ে উঠে। পরে এ বিষয়ে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর বিষয়টি কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদারের নজরে আসে। ওসি আব্দুল হাই তালুকদার ওইদিনই (১৬ জুন) মঙ্গলবার রাতে থানার এস.আই মোঃ আতাউর রহমানকে নির্যাতিতা স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে পাঠান। এস.আই আতাউর রহমান অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম মাস্টারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বস্ত করে নির্যাতিত স্কুল ছাত্রীর বাবাকে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলেন। পরে স্কুল ছাত্রীর বাবা কুলিয়ারচর উপজেলার একটি সামাজিক সংগঠন "কুলিয়ারচর ছাত্র কল্যাণ পরিষদ" এর সদস্যদের সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুবাইয়াৎ ফেরদৌসীর বরাবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরদিন (১৭ জুন) বুধবার বেলা ১১ টার দিকে স্কুল ছাত্রীর বাবাকে বাদী করে অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিমকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জনকে আসামী করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী-২০০৩ এর ১০ তৎসহ ৫০৬ দ: বি: ধারায় কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলা নং- ০৯। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন মোঃ নিজাম উদ্দিন মেম্বার (৫০), মোঃ কামরুল হাসান (৪৫) ও এমাদ মিয়া (৩৫)।


অন্যদিকে মামলা রুজু হওয়ার পরও শিক্ষক সেলিমের বিচার দাবিতে এলাকায় মিছিল, মানববন্ধন অব্যহত ছিল। মিছিল মানববন্ধনের অংশ হিসেবে (১৭ জুন) বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ৪৩ নং দড়িগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ও একই সময় ফ্রেন্ডস ক্লাব-ব্যাচ ২০১০ (এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়) সংগঠনের উদ্যোগে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সালুয়া ইউনিয়নের ডুমরাকান্দা বাজার শহীদ মিনার মোড়েও মানববন্ধন করে।


বিক্ষোভকারী, মানববন্ধনকারী, এলাকাবাসী, ফেসবুক স্ট্যাটাস ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত (১১ জুন) বৃহস্পতিবার সকালে দড়িগাঁও গ্রামের আপেল মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তির কন্যা ৪৩ নং দড়িগাঁও সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী (১২) প্রতিদিনের ন্যায় ওইদিনও শিক্ষক সেলিমের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সময় প্রাইভেট রুমে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে শিক্ষক সেলিম ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন হয়রানি করে। পরে  বিষয়টি দড়িগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে জানা-জানি হলে গ্রামের যুবসমাজ শিক্ষক সেলিমের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি করেন। 


কর্মসূচি পালনকারীরা বলেন, মানুষ গড়ার কারিগর একজন প্রধান শিক্ষকের চরিত্র যদি এমন হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কি শিখবে। তারা বলেন, শিক্ষক সেলিম এ ধরণের ঘটনা শুধু  একবার-দুইবার নয় আরও একাধিকবার  ঘটিয়েছেন। একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে বারবার সে টাকার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছেন। তা আর হতে দেওয়া যায় না। তারা আরো বলেন, এবারও যদি বিচার না হয় তাহলে আগামী দিনে আরো একটি স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিশু তার কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হতে পারে৷ আর সেটা হতে পারে আপনার আমার আদরের মেয়ে কিংবা বোন।


আন্দোলনকারীদের ভাষ্য ও স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহাকারীদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনটাই বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষক সেলিমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানি  করেছে এমন অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই না, এর আগে তারই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার নামে মামলাও হয়েছিল। যা পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের সহযোগীতায় ও ছত্র ছায়ায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের কারণে এসব ঘটনার কোনোটারই বিচার পাননি ভূক্তভোগীরা। তারা সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার পর আবারও এলাকায় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে শিক্ষক সেলিমের পক্ষ হয়ে দড়িগাঁও গ্রামের বর্তমান মেম্বার নিজাম উদ্দিন এবং দড়িগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম ও একটি সরকারী হাসপাতালের কর্মচারী মোঃ রফিক মিয়ার মাধ্যমে টাকা পয়সা দিয়ে উক্ত ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।


ঘটনা জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ওই বিদ্যালয় থেকে বেড় করার জন্য একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে আমার পিছনে লেগে আছে। মহলটি এর আগেও আমাকে এই বিদ্যালয় থেকে সরাতে আমার বিরুদ্ধে উপর মহলে একাধিকবার বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ করেছে। আমাকে কেথাও দোষী সাবস্ত করতে না পেরেই তাদের এই নতুন স্বরযন্ত্র।


মামলা বিষয়ে জানতে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হাই তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর বাবাকে বাদী করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  
          
অভিযুক্ত সেলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ কবির উল্লাহ ও ডুমরাকান্দা ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিবাইয়াৎ ফেরদৌসীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জকে বলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইয়াছির মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

উপর