logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

সাবরিনাই জেকেজির করোনা পরীক্ষার কাজ বাগিয়েছিলেন, রিমান্ডে চাইবে পুলিশ


সাবরিনাই জেকেজির করোনা পরীক্ষার কাজ বাগিয়েছিলেন, রিমান্ডে চাইবে পুলিশ

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীই জেকেজি হেলথকেয়ারের করোনার নমুনা সংগ্রহের অনুমোদনের কাজটি বাগিয়ে নেন। জেকেজির প্রধান নির্বাহী ও স্বামী আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে মিলে করোনার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।

দেশজুড়ে আলোচিত ভয়াবহ এই প্রতারণার ঘটনায় জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২০ দিন পর ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন তার চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আগামীকাল সোমবার আদালতে তোলা হবে।।

সাবরিনাকে গ্রেপ্তারের পর হারুন অর রশিদ বলেন, করোনা টেস্ট নিয়ে জেকেজি হাসপাতালের জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ তার রিমান্ড আবেদন করবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনায় আর কে কে জড়িত রয়েছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

হারুন অর রশিদ বলেন, এর আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে জালিয়াতির অভিযোগে জেকেজির যেসব সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের সবাই বলেছেন সাবরিনাই জেকেজির চেয়ারম্যান। তাছাড়া তেজগাঁও কলেজে জেকেজির বুথে হামলার অভিযোগ উঠলে সাবরিনাই প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেন। অভিযানের একদিন আগে তিনি নিজে প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যান। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কখনই কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করতে পারেন না।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবরিনা তার স্ত্রী। যদিও সাবরিনার দাবি, স্বামীকে ইতিমধ্যে ডিভোর্স দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনার আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপে তৈরি করা হয়। জব্দ করা ল্যাপটপে এর প্রমাণ মিলেছে।

জেকেজির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়া মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতেন। প্রতি রিপোর্টে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়া হতো। আর বিদেশিদের কাছ থেকে নেন ১০০ ডলার। সেই হিসেবে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্টে প্রায় আট কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেকেজি।

এর আগে ২৪ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতারক আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জেকেজির কার্যালয় থেকে ল্যাপটপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় চারটি মামলা হয়েছে।

মন্তব্য

উপর