logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

অবসর নিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ বিসিবির


অবসর নিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ বিসিবির

জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে ছিলেন না রিয়াদ। মূল দল ঘোষণার ২ দিন পর হঠাৎ অন্তর্ভুক্ত করা হয় রিয়াদকে। দেশের ক্রিকেটে মেঘে ঢাকা এক সূর্য মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েছেন, কিন্তু সঠিক সম্মানটুকু কি পেয়েছেন? দল যখন বারবার খাদের কিনারে গিয়েছে কাণ্ডারি হয়ে একাই টেনে নিয়েছেন। মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তার বিনিময়ে কী পেয়েছেন। নানা কারণে বাদ পড়েছেন দল থেকে। হ্যাঁ, এই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই দেশের ক্রিকেটে অবহেলার আরেক নাম।

শুক্রবার (৯ জুলাই) হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে টিম মিটিংয়ে রিয়াদ সতীর্থদের জানান, এটাই যথাযথ সময় সাদা পোষাককে বিদায় বলার, এই টেস্টটাই শেষ টেস্ট হতে যাচ্ছে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয় বোর্ডে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে তার এই ভাবনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

কথায় আছে, অভিজ্ঞতাই বড় অর্জন। কিন্তু দেশের ক্রিকেটে যেন এই অভিজ্ঞতাই ব্রাত্য। দিন যত গড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতার ঝুলি তত পূর্ণ হয়েছে। মাঠে পাল্লা দিয়ে হেসেছে তার ব্যাট। তারপরও মন ভরেনি টিম ম্যানেজমেন্টের। ভালবাসার পাত্র হতে পারেননি কোচেরও।

গেলো বছর কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছিলেন, তার টেস্ট পরিকল্পনায় নেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পাকিস্তান সিরিজের পর তাকে বাদ দেওয়া হয় সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে। আবার দলের যখন দুঃসময় তখন তাকে ডাকা হয়।

দীর্ঘ ১৬ মাস পর আবার সাদা পোশাকে বাংলাদেশের স্কোয়াডে ফিরেছিলেন। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফেরার ম্যাচে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংসও। তবে ৫০ তম টেস্ট খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলতে চাচ্ছেন কেন জানেন কী?

৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বর্তমানে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ানডে দলেও তিনি নিয়মিত সদস্য। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলার পর এই দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েন। এরপর টেস্ট দলে রিয়াদকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা হয়।

এই ইনিংস দিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছিলেন রিয়াদ। তাকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না, সেই বার্তাই যেন দিয়েছে তার ব্যাট।

প্রত্যাশার প্রমাণ দিয়েও বারবার যখন অপমান হতে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই অভিমান বাড়ে। আর সেই অভিমান থেকেই হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে টিম মিটিংয়ে জানিয়েছেন সাদা পোশাককে বিদায় জানানোর ইচ্ছা।

তাহলে হারারে টেস্টই কি হতে যাচ্ছে মাহমুদউল্লাহর শেষ টেস্ট?

রিয়াদের ক্রিকেটের এই বনেদি সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত সত্যি হলে ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া হবে না অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের। আরও এক ক্রিকেটারকে হয়তো প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া হবে না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণ ২০০৭ সালে হলেও, ২০০৯ সালের ৯ জুলাই কিন্সটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। হারারে টেস্টের আগে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে।

আজ অব্দি ৫০ টেস্টের ৯৪ ইনিংসে ব্যাট করে ২৯১৪ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ১৬ ফিফটির সঙ্গে আছে ৫ সেঞ্চুরি। গড়টা ৩৩.৪৯।

৬৫ ইনিংসে মোট ৫৬৬.৩ ওভার বল করে রিয়াদ উইকেট নিয়েছেন ৪৩ টি। ইনিংসে একবার নিয়েছেন ৫ উইকেট, ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট ১১০ রান খরচে।

তবে ম্যাচ চলাকালেই রিয়াদের অবসরের সিদ্ধান্তে যেন বিষাদের ছায়া পড়েছে ক্রিকেট প্রেমি ও রিয়াদ ভক্তদের মাঝে, যদিও রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনও অবসরের চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। বিসিবির আহ্বানে শেষপর্যন্ত রিয়াদ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন কি না, তাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য

উপর