logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

গত ৫ জুলাই কুলিয়ারচর থেকে পাওয়া অজ্ঞাত সেই নারী পেয়েছে হারানো ঠিকানা


গত ৫ জুলাই কুলিয়ারচর থেকে পাওয়া অজ্ঞাত সেই নারী পেয়েছে হারানো ঠিকানা

গত ৫ জুলাই কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে প্রায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা থেকে উদ্ধারকৃত অসুস্থ ও অজ্ঞাত পরিচয় সেই নারী ১১ দিন পর অবশেষে ফিরে পেলেন তার আপনজন ও হারানো ঠিকানা।


জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার খাগাটি গ্রামের মৃত শমে মইশাল এর পুত্র মোঃ রহিম এসে ওই নারীকে তার আপন বোন দাবী করেন। এ সময় তিনি তার বোন মানসিক রোগী দাবি করে বলেন, তার নাম নাছিমা। সে প্রায় ৫ মাস পুর্বে সকালে নাস্তা খেয়ে দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে বেড় হয়ে যায় আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বোনের কোন সন্ধান করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, নাছিমার স্বামীর নাম সুরুজ আলী। আমার বোনের ১৬ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান আছে। তার নাম রাজিব। নাছিমা প্রায় ১০ বছর যাবত মানসিক রোগে আক্রান্ত। সে নিখুঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে গত ১৫ জুলায় স্থানীয় সানকীভাঙ্গা বাজারের এক ব্যবসায়ী তার মোবাইল ফোনে আমার বোনের ছবি ও সংবাদ দেখে আমাদেরকে জানালে আমার এসে বোনের ছবি দেখে নিশ্চিত হয় যে এটা আমার বোন নাছিমা। পরে সংবাদের ঠিকানা অনুযায়ী আজ ১৬ জুলাই কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসি। হাসপাতালে এসে পাশের এক রোগির কাছ থেকে জানতে পারি যে, কুলিয়ারচরের এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্  আলম নামের একজন সাংবাদিক তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে অন্যান্য সাংবাদিকদের নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমি ওই সাংবাদিকের সাথে  এবং কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ এর সাথে দেখা করে  উনাদেরকে নিয়ে সন্ধার একটু আগে হাসপাতালে গিয়ে আমার বোনকে রিলিজ করে বাড়ীতে যাওয়ার জন্য রওনা হই।
এ সময় কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম সুলতান মাহমুদ আমার বোনকে নিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার জন্য একটি এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে এম্বুলেন্স খরচ ও রোগীর ঔষধ ক্রয়ের জন্য নগদ দশ হাজার টাকা প্রদান করেন।


রিলিজের সময় উপস্থিত ছিলেন, কর্তব্যরত চিকিৎক ডাঃ মোঃ আলী আরবাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম আবিরাজ মাস্টার, স্থানীয় সাংবাদিক মোছাঃ শুভ্রা, শাহিন সুলতানা, মৌসুমি আক্তার ও সবুজ মিয়া।
উল্লেখ্য, কুলিয়ারচরের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি ঝোপের ভিতর ড্রেনের মধ্যে অচেতন অবস্থায়  অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি ও কিশোরগঞ্জ জজকোর্টর আইনজীবী  অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম করোনা কালীন সময় নিজের মৃত্যু ভয় পিছনে ফেলে ওই নারীকে স্থানীয় দুইজন নারীর সহায়তায় উদ্ধার করে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহয়তায় কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। ভর্তি করার পর থেকে কুলিয়ারচর স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ওই নারীর খোঁজ-খবর রাখছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছেন।

মন্তব্য

উপর