logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

যশোরে শালাকে হত্যা,পুলিশের খাঁচায় ভগ্নিপতি।


যশোরে শালাকে হত্যা,পুলিশের খাঁচায় ভগ্নিপতি।

যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মশান মাঠের একটি পাটক্ষেত থেকে গত ১১ জুলাই মুখে স্কসস্টেপ জড়ানো ১৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের মৃত দেহ উদ্ধার করে চৌগাছা থানা পুলিশ।
অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে মৃতদেহ সনাক্ত করেন। 

উদ্ধারকৃত মৃত ব্যাক্তি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার বাজিপোতা গ্রামের মোঃ মহিউদ্দীনের ছেলে এহতেশাম মাহমুদ রাতুল (১৮) সে সামবাজার এম.পি.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থী।

পুলিশ জানায়, গত ১১/০৭/২০২১ তারিখ বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বাড়ী থেকে বাহির হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলেও এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলো স্কুল শিক্ষার্থী রাতুল । 

এই ঘটনার বিষয়ে রাতুলের পিতা মহিউদ্দীন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। চৌগাছা থানার মামলা নং-০৮ তারিখঃ ১৩/০৭/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হওয়ায় যশোর জেলার পুলিশ সুপার জনাব প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার) পিপিএম মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর ন্যাস্ত করে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ হাওলা মতে এসআই (নিঃ) মোঃ শামীম হোসেন এই মামলার তদন্তভার গ্রহন করেন।

পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), জনাব জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার “ক” সার্কেল জনাব বেলাল হোসাইন গণ’দের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জনাব রূপন কুমার সরকার, পিপিএম এর নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র এসআই (নিঃ) মোঃ শামীম হোসেন, সংগীয় এসআই (নিঃ) মোঃ মফিজুল ইসলাম, পিপিএম ও এএসআই (নিঃ) রঞ্জন সরকার, সঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি চৌকস টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ইং ১৬/০৭/২০২১ তারিখ বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সিএমপি বন্দর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ও মূল হত্যাকারী রাতুলের আপন ভগ্নিপতি শিশির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে।
এবং তার স্বীকারোক্তি মতে একই দিন রাত ০৯.৩০ মিনিটের দিকে চৌগাছা থানা লস্করপুর শ্মশান মাঠের অদূরে একটি পাটক্ষেত থেকে হত্যার শিকার রাতুলের পরিহিত বস্ত্র, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও হ্যান্ড গ্লভস্ এবং একই তারিখ ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন কাশিপুর ধৃত আসামীর বসতবাড়ী থেকে অত্র মামলার ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এসময় পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী শিশির আহম্মেদ (২১), পিতা-মোঃ হায়দার আলী মন্ডল, স্ত্রী-মাহমুদা মমতাজ মীম, সাং-কাশিপুর, থানা-কোটচাঁদপুর, জেলা-ঝিনাইদহ অত্র মামলার ভিকটিমের আপন ভগ্নিপতি। ধৃত আসামীর শ্বশুর একদিন বাড়ীতে ডেকে এনে অপমান অপদস্থ করায় রাগে ক্ষোভে তার একমাত্র ছেলে (ভিকটিম) কে মেরে
ফেলার পরিকল্পনা আটেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শ্যালক রাতুলকে তার ভগ্নিপতি শিশির আহাম্মেদ মোবাইল ফোনে (ভিকটিমের বোনের ফোন দ্বারা) ডেকে নিয়ে মামলার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা সেবন ও কোমল পানীয় মজো এর মধ্যে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে ভিকটিমকে খাইয়ে অজ্ঞান করে আসামী শিশির আহাম্মেদ ভিকটিমের নাক মুখে স্কচ ট্যাপ দ্বারা মোড়ায়ে ভিকটিমের শ্বাসরোধ করে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে অত্র মামলার ঘটনাস্থলে লাশ গুম করার জন্য ফেলে রাখে ও ভিকটিমের গায়ের কাঁপড় খুলে ঘটনাস্থলের পাশে আরেকটি পাট ক্ষেতে ফেলে রাখে এবং ভিকটিমের মোবাইল টি সিম খুলে আসামীর বসত কক্ষে ইটের নীচে পুতে রাখে।

মন্তব্য

উপর